মাছ চাষ

অন্যান্য টিপসমাছ চাষ

নিজস্ব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করার কিছু টিপস

নিজস্ব খামারে শিং মাছ চাষনিজস্ব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করার কিছু টিপস

খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করার পদ্ধতিঃ

পুকুরে শিং মাছ চাষ এটি একটি লাভজনক চাষ। ভাল করে চাষ করতে পারলে কার্পজাতীয় মাছের তুলনায় শিং মাছ চাষে লাভ বেশি হয়। শিং মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Heteropneustes fossilis . এটি একটি বাংলাদেশের Native মাছ। মাছটিকে Stinging catfish ইংরেজিতে বলে। দেহ কোন আঁশ নাই কিন্তু মুখে গোঁফ আছে। খেতে সুস্বাদু। শিং মাছ সাদু পানির মাছ। মাছ চাষে ভাল ফলাফল পেতে হলে প্রতিটি প্রজাতির মাছকে নার্সিং করা জরুরী।

শিং মাছ চাষ করার জন্য পুকুর নির্বাচনঃ

শিং মাছ চাষ করার জন্য পুকুর নির্বাচনের সময় কয়েকটা দিক লক্ষ্য রাখতে হবে-
১. পুকুর অবশ্যই বন্যামুক্ত হতে হবে।
২. পুকুরের পাড় মজবুত হতে হবে। কোন প্রকার ছিদ্র থাকলে সমস্ত- শিং মাছ চলে যাবে।
৩. বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় পানির উচ্চতা ৪ ফুটের বেশি হবে না এই জাতীয় পুকুর নির্বাচন করতে হবে।
৪. বিভিন্ন চাষির অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, শিং মাছের পুকুর আয়তাকার হলে ভাল ফল পাওয়া যায়। বর্গাকার একটি পুকুরের চেয়ে আয়তাকার পুকুরে একই হারে খাদ্য ও ব্যবস্থাপনায় কমপক্ষে ১০ ভাগ বেশি উৎপাদন হয়।
৫. পুকুরের আয়তন ৪০/৫০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে এবং পুকুরের এক প্রান্ত- অন্য প্রান্তের চেয়ে ১ ফুট ঢালু রাখতে হবে যাতে মাছ ধরার সুবিধাসহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা যায়।

শিং চাষ করার জন্য পুকুর প্রস্তুতঃ

নতুন ও পুরাতন উভয় ধরনের পুকুরে শিং মাছ চাষ করা যায়। তবে নতুন পুকুরের চেয়ে পুরাতন পুকুরে শিং চাষ ভাল হয়। নতুন পুকুরে  চাষ করলে পুকুর ভালভাবে চাষ দিয়ে প্রতি শতাংশে কমপক্ষে ২০ কেজি গোবর ও ভালভাবে মই দিয়ে তারপর চুন দিতে হবে। তাতে মাটির উর্বরতা বাড়বে। শিং মাছের পুকুর উর্বর না থাকলে অনেক সময় শিং মাছ মজুতের পর পোনা আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।

পুরাতন পুকুরে শিং মাছ চাষের জন্য প্রথমেই সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরের তলায় বেশি কাদা থাকলে উপরের স্তরের কিছু কাদা উঠিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চুন দিতে হবে শতাংশ প্রতি ১ কেজি। তারপর পুকুরের চারদিকে জাল দিয়ে ভালভাবে ঘের দিতে হবে। এতে কোন সাপ বা ব্যাঙ পুকুরে ঢুকতে পারবে না। ব্যাঙ বেশি ক্ষতিকর না হলেও সাপ শিং মাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

শিং পোনার চলার ধীর গতির কারণে সাপ অনেক পোনা খেয়ে ফেলতে পারে। চারপাশে জাল দেয়ার পর পুকুরে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে ২ থেকে ৩ ফুট পরিষ্কার পানি দিতে হবে। পানি দেয়ার ২/৩ দিনের মধ্যে পোনা ছাড়তে হবে। পোনা ছাড়ার পর এক ইঞ্চি ফাঁসের একটি জাল পেতে রাখতে হবে তাতে পুকুরের ভেতর কোন সাপ থাকলে ওই জালে আটকা পড়বে।

চারপাশে লতাপাতা কচুরিপানা থাকলে ভাল করে পরিষ্কার করতে হবে। পুকুরের পাড়ে বড় কোন গাছ পালা থাকলে ছাঁটাই করে দিতে হবে। পুকুরের তলায় মই টেনে মাটি সমান করে দিতে হবে। তারপর প্রতি শতাংশে ৫০০ গ্রাম হারে চুন ও ১৫০ হারে জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম হারে লবণ দিতে হবে। পুকুরের তলায় যদি গ্যাস থাকে তাহলে গ্যাস উত্তোলন করার জন্য “গ্যাস টপ ” ঔষধ দিতে হবে।

চুন , জিওলাইট ,লবণ, গ্যাস টপ প্রয়োগ করার ১২ ঘণ্টা পরে পুকুরে পরিষ্কার পানি দিতে হবে। ১০ শতাংশ একটি নার্সিং পুকুরের জন্য সর্বচ্চো ১ কেজি শিং মাছের রেণু ছাড়া যাবে। শিং মাছের নার্সিং পুকুরের ৩ থেকে ৪ ফুট পানি রাখতে হবে । ৪ ফুটের বেশি পানি থাকলে পানি সেচ দিয়ে কমিয়ে রাখতে হবে।

চাষ করার জন্য পোনা মজুদঃ

সাধারণত নার্সিং কারার পরে নার্সিংকৃত পোনা বাজারে বিক্রয় করার আগ পর্যন্ত যে চাষ প্রক্রিয়া করা হয় সেটাই হল কালচার চাষ পদ্ধতি। শিং মাছের কালচার পুকুরের আয়তন ৩০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে হলে ভাল হয়।

কালচার পুকুর প্রস্তুতি এবং নার্সিং পুকুর প্রস্তুতি প্রায় একই রকম। যদি সম্ভব হয় পুকুরের পানি শুকিয়ে নিতে পারলে ভাল তা না হলে জাল টেনে বা মাছ মারার বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ নিধন করে শিং মাছের পোনা ছাড়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। শিং মাছের পুকুরে গোবর না দিলেও চলবে। মাছ ছাড়ার ৩ দিন আগে প্রতি শতাংশে ১ হারে চুন ২৫০ গ্রাম হারে লবণ প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে তলায় গ্যাস থাকলে গ্যাসটপ দিতে হবে। ভাইরাস প্রতিরোধ হিসাবে প্রতি শতাংশে ২ গ্রাম হরে টিমসেন বা ভাইরেক্স দেওয়া যেতে পারে। পুকুরের চারপাশে তিন ফোট উঁচু করে নেট জালে ঘের দিতে হবে।

পুকুর প্রস্তুতের পর গুণগতমানের পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারি থেকে প্রায় ২ ইঞ্চি সাইজের পোনা মজুদ করতে হবে। আজকাল পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার কারণে অনেক হ্যাচারিই শিং মাছের পোনা উৎপাদন করে। কিন্তু পোনাকে কীভাবে মজুদ করলে পোনার মৃত্যহার কম হবে বা আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থাপনা কি হবে তা অধিকাংশ হ্যাচারিই না জানার কারণে শিং মাছের পোনা মজুদের পর ব্যাপকহারে মড়ক দেখা দেয়।

প্রথমে যা করতে হবে তা হল, হ্যাচারিতে পোনা তোলার পর কন্ডিশন করে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর পোনা ডেলিভারি দিতে হবে। পোনা পরিবহনের পর এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে পুকুরে ছাড়তে হবে। আর তা না হলে পুকুরে ছাড়ার পর পোনা ক্ষতরোগে আক্রান্ত- হতে পারে। পুকুরে পোনা ছাড়ার ২/৩ দিন পর আবার একই জাতীয় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। এতে শিং মাছের পোনা মজুদের পর আর কোন রোগবালাই আসবে না।

শিং মাছ চাষ করার জন্য মজুদ ঘনত্বঃ

শিং মাছ চাষ এককভাবে বা মিশ্রভাবে করা যায়। মিশ্রভাবে চাষ করতে হলে কার্প জাতীয় মাছের সাথে প্রতি শতাংশে ৩০টি পর্যন্ত- আঙ্গুল সাইজের শিং মাছের পোনা ছাড়তে হবে। পোনা মজুদের সময় পোনাকে এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল দিয়ে তারপর পুকুরে ছাড়তে হবে। কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের সাথেও শিং মাছের মিশ্রচাষ করা যায়।

সে ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৫০টি পর্যন্ত- শিং মাছের পোনা মিশ্রভাবে ছাড়া যায়। কার্প জাতীয়, তেলাপিয়া বা পাঙ্গাসের সাথে শিং মাছ চাষ করলে বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। পুকুরের তলায় উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়েই এরা বড় হয়ে থাকে। উপরোন্ত- এই জাতীয় মাছের পুকুরে শিং মাছ মিশ্রভাবে চাষ করলে পুকুরে অ্যামোনিয়াসহ অন্যান্য গ্যাসের কম হয়।

** একক চাষে শিং মাছ প্রতি শতাংশে ৫০০ থেকে ১০০০ টি পর্যন্ত ছাড়া যায়।

শিং চাষ করার জন্য খাবার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

প্রথম তিন দিন শিং মাছের রেণু কে সিদ্ধ ডিমের কুসুম খাওয়াতে হবে। ১ কেজি রেণুর জন্য প্রতিদিন ১৬ টি সিদ্ধ ডিমের কুসুম খাওয়াতে হবে। সকলে ৮টি বিকাল বা রাতে ৮ টি ডিমের কুসুম খাওয়াতে হবে। সিদ্ধ ডিমের কুসুম পরিষ্কার পানির সাথে ভাল করে মিশিয়ে সমস্ত পুকুরের সমান ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।

তিন দিন পরে প্যাকেট জাতীয় পাউডার ফিস ফিড দিতে হবে যেমন রেণু গোন্ড, টাইগার ব্রান্ড ইয়ন নার্সারী ফিড। এগুলো পানির সাথে মিশিয়ে ভাল করে পুকুরের সমান ভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। তবে পাউডারের ফিড এর সাথে সরিষার খৈল ভিজিয়ে মাছকে খাওয়ানো যাবে।

প্রথম সপ্তাহে মাছের ওজনের ১০০% খাবার দিতে হবে। অর্থাৎ ১ কেজি রেণু জন্য প্রতিদিন ১ কেজি খাবার দিতে হবে। শিং মাছের রেণু প্রতিদিন ৩ বেলা খাবার দিতে হবে। মাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাছের খাবার আস্তে আস্তে বাড়িয়ে দিতে হবে। শিং মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুরের পানির কালার হলকা সবুজ রাখতে হবে। হয়। পানি দেওয়ার ৭২ ঘণ্টা পরে পুকুরে শিং মাছের রেণু মাছ ছাড়া যাবে।

রেণু ছাড়ার সময় পুকুরের পানির সাথে অক্সিজেন ব্যাগ এর পানি ম্যাচ করে ছাড়তে হবে। প্রতি শতাংশে ৫ থেকে ১০ গ্রাম শিং মাছের রেণু ছাড়া যাবে। ১০ শতাংশ একটি নার্সিং পুকুরের জন্য সর্বউচ্চু ১ কেজি শিং মাছের রেণু ছাড়া যাবে। শিং মাছের নার্সিং পুকুরের ৩ থেকে ৪ ফোট পানি রাখতে হবে । ৪ ফোটের বেশি পানি থাকলে পানি সেচ দিয়ে কমিয়ে রাখতে হবে।

শিং মাছকে ভাসমান ফিস ফিড খাবার দিতে হবে। ছোট অবস্থায় পাউডার ফিড দিতে হবে। মাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে দানাধার খাদ্য দিতে হবে। শিং মাছের খাবারে ৩০ – ৩৫ % আমিষ থাকতে হবে। শিং মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য শর্করা ,চর্বি ,ফ্যাট , প্রাণীজ ও খনিজ এবং ভিটামিন পুষ্টি উপাদান থাকতে হবে। সাধারণত শিং মাছ রাতে ক্ষেতে পছন্দ করে। মাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে দিনের ভেলায় খাদ্য খায়। প্রথম অবস্থায় ২ -৩ ইঞ্চি মাছের জন্য মাছের ওজনের ৩০% খাদ্য দিতে হবে। ১০ দিন অন্তর অন্তর মাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে মাছের খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে । শিং মাছ যখন কেজিতে ৪০ – ৫০ টি হবে তখন ওজনের ৩% হারে খাবার দিতে হবে।

পুকুরে শিং মাছের পোনা মজুদের পর প্রথম ১০ দিন দৈনিক মাছের ওজনের ২০% খাবার প্রয়োগ করতে হয়। ছোট থাকা শিং মাছ সাধারণত রাতের বেলায় খেতে পছন্দ করে; তাই ২০% খাবারকে দু’বেলায় সমান ভাগ করে সন্ধ্যার পর অর্থাৎ ভোরের দিকে একটু অন্ধকার থাকতে পুকুরে প্রয়োগ করতে হয়। মাছ মজুদের পরের ১০ দিন ১৫% হারে এবং এর পরের ১০ দিন মাছের ওজনের ১০% হারে পুকুরে খাবার প্রয়োগ করতে হয় একই নিয়মে।

এভাবে এক মাস খাবার প্রয়োগের পর ৫% হারে পুকুরে খাবার দিতে হবে। শিং মাছ ছোট থাকা অবস্থায় রাতে খাবার খেলেও ৩ ইঞ্চির মত সাইজ হওয়ার সাথে সাথে দিনের বেলাতে খাবার দিতে হবে। সন্ধ্যার পর যে খাবার দেয়া হত সেটি সন্ধ্যার একটু আগে এগিয়ে এনে আস্তে আস্তে বিকেলে দিতে হবে। অন্যদিকে ভোর বেলার খাবারও এমনি করে সকাল ৯/১০ টার দিকে পিছিয়ে নিতে হবে।

শিং মাছের ওজন ১৫ গ্রাম হলে ৩% এর অধিক খাবার দেয়া মোটেই ঠিক নয় এবং বিক্রির আগ পর্যন্ত এই নিয়মই বজায় রাখতে হবে। পুকুরে বেশি পরিমাণ খাবার দিলে পানি নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা শিং মাছ চাষের একটি বড় অন্তরায়।

শিং মাছের রেনু নার্সিং পুকুরে রোগ ব্যাবস্থাপনা:

শিং মাছের রেণুর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ভাইরাস। পুকুরে একবার ভাইরাস হলে শিং মাছকে আর বাঁচানো যায় না। তাই মাছে যাতে ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় তার জন্য আগে থেকেই প্রতি শতাংশে ২ গ্রাম হারে টিমসেন বা ভাইরেক্স প্রয়োগ করতে হবে।

তাছাড়া রোগ প্রতিরোগ ব্যবস্থা হিসাবে প্রতি সপ্তাহে লবণ -২০০ গ্রাম, পটাশ – ২.৫ গ্রাম, পরিমাণ মত ভিটামিন সি প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে যদি অক্সিজেনের অভাব হয় তাহলে অক্সিজেনের ট্যাবলেট অক্সি টেপ বা অক্সি গোল্ড অথবা অক্সিমোর প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরের তলায় অতিরিক্ত গ্যাস হলে আস্তে আস্তে হয়রা টানতে হবে অথবা গ্যাস উত্তোলনের জন্য গ্যাসোনেক্স প্রয়োগ করেত হবে।

শীতকালে শিং চাষ করার জন্য করণীয়ঃ

শীতকালে শিং মাছের রোগবালাই থেকে রক্ষার জন্য প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হয়। সাথে প্রতি মাসে একবার এন্টিফাঙ্গাস মেডিসিন দেয়া দরকার। পানির উচ্চতা ২ ফুটে রাখা বাঞ্চনীয়। গ্যাস দূর করতে কোন অবস্থাতেই শিং মাছের পুকুরে হররা টানা যাবে না। এতে শিং মাছ খাবার ছেড়ে দিয়ে আরো বেশি গ্যাসের সৃষ্টি করবে। নিচের অ্যামোনিয়া গ্যাস দূর করতে গ্যাসোনেক্স ব্যবহার করা যেতে পারে।

শিং মাছ চাষে আয় –ব্যয়ঃ

ধরা যাক আপনি ১ বিঘা (৩৩ শতাংশ) একটি পুকুরে দেশি শিং মাছ চাষ করবেন । আয় ব্যয় নিম্নরুপঃ
ব্যয় খাতের নাম: ————————————————- টাকা
পুকুর ভাড়া (১ বছরের জন্য ১ বিঘা বা ৩৩ শতাক)——- ১০,০০০ টাকা
শিং মাছের পোনা ক্রয় (২ × ৩০,০০০ টি )————- –৬০,০০০টাকা
চুন প্রয়োগ (৩৩ কেজি ১২ টাকা করে) ——————৩৯৬টাকা
শ্রমিক————————————————– ১৫,০০০টাকা
রোগ ব্যবস্থাপনা —————————————- ৩,০০০টাকা
পরিবহন খরচ ———————————– ——-৬,০০০টাকা
খাদ্য (প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে ১৫০০×৫০) ———–৭৫,০০০টাকা
মোট ব্যয়: ১,৬৯,৩৯৬ টাকা
আয়ঃ
১ বিঘা পুকুরে ৩০,০০০ পোনা ছাড়লে ৩০,০০০ পোনা পাওয়া যাবে না। ধরে নিন ১৫- ২০ % পোনা মরে যায়। তাহলে ৩০,০০০ পোনা ছাড়লে ২৪,০০০ শিং মাছ পাওয়া যাবে। ৬ থেকে ৭ মাস পরে প্রতিটি শিং মাছের ওজন হবে ৪০ – ৫০ গ্রাম। কম করে ধরে  ২৪,০০০ হাজার মাছের মোট ওজন হবে ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম = (২৪,০০০×.৪০গ্রাম ) = ৯৬০ কেজি। বর্তমান সময়ে প্রতি কেজি শিং মাছের বাজার মূল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। পায়কারী বিক্রয়মূল্য ৪৫০ টাকা করে (৯৬০×৪৫০) = ৪,৩২,০০০ টাকা ।
নীট আয় = (৪,৩২,০০০ – ১,৬৯,৩৯৬) = ২,৬২,৬০৪ টাকা।

জেনে নিন জেনেটিক্যালি মডিফাইড ফুড কি এবং জানা ও অজানা

সুত্রঃ ফেসবুক পেজ, উইকিপিডিয়া

0
%d bloggers like this: